টাইমস নিউজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ‘বড় আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে, ভন ডার লেয়েনের এমন মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন আরও বেশ কয়েকটি দেশের নেতারা। চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘দৃঢ় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
এই সতর্কবার্তাগুলো আসে ঠিক তখনই, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, ৫ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সব পণ্যের ওপর ১০% সার্বজনীন শুল্ক আরোপ করা হবে। এছাড়াও, ৯ এপ্রিল থেকে প্রায় ৬০টি দেশের ওপর আরও বেশি হারে শুল্ক বসবে।
ট্রাম্প বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো অন্যায্য বাণিজ্য নীতির প্রতিশোধ নেওয়া। তার দাবি, এই শুল্ক দেশীয় উৎপাদনকে চাঙ্গা করবে এবং এই পদক্ষেপ ‘আমেরিকাকে পুনরায় ধনী করবে’।
ভন ডার লেয়েন বলেন, এই নতুন শুল্ক বিশ্ববাজারে ‘অনিশ্চয়তার বিস্তার ঘটাবে’, যার ফলে ‘বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি’ ঘটতে পারে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোর ওপর এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলবে, যাদের মধ্যে কিছু দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শুল্কের শিকার হতে চলেছে।
ইইউ প্রধান বলেছেন, ইউরোপ ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন – যেটি ২০% শুল্কের আওতায় পড়েছে – পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি আপনি আমাদের একজনের বিরুদ্ধে যান, তাহলে পুরো ইউরোপের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য কাজ করবেন যাতে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ এড়ানো যায়।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তার দেশ ‘একটি উন্মুক্ত বিশ্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ থাকবে। এদিকে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে অনুশোচনীয়’ এবং ‘কাউকে উপকৃত করবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার এলিসি প্রাসাদে শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন উল্লেখ করে ফরাসি সরকারের মুখপাত্র সোফি প্রিমাস বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, ফ্রান্স ‘এই বাণিজ্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’।
ইইউ-এর বাইরে, চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা পূর্বের ২০ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট ৫৪ শতাংশ হয়েছে।
তাইওয়ান ৩২% শুল্কের শিকার হয়েছে। দেশটি এই পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু বলেছেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ বাস্তবে পরিণত হয়েছে’ এবং তার সরকার ‘বাণিজ্য সংকট কাটিয়ে ওঠার উপায় খুঁজছে’, কারণ দেশটি ২৫% শুল্কের আওতায় পড়েছে।
জাপান বলেছে, ২৪% শুল্ক ‘চরম অনুশোচনীয়’ এবং এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র-জাপান চুক্তির লঙ্ঘন হতে পারে।
থাইল্যান্ড জানিয়েছে, তারা তাদের ৩৬ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সব পণ্যের শুল্ক তুলে দিয়েছিল ইসরায়েল। কিন্তু এখন ১৭% নতুন শুল্কের ঘোষণায় ‘সম্পূর্ণ হতবাক’ হয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
১০% মূল হারযুক্ত দেশগুলোর নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, আমেরিকান জনগণই এই ‘অযৌক্তিক শুল্কের’ সবচেয়ে বড় মূল্য দেবে।
বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টার্মার বলেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে শুল্কের প্রভাব হ্রাস করতে ‘সংগ্রাম’ চালাবে।
ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ব্রাজিল, বুধবার কংগ্রেসে একটি আইন পাশ করেছে যা ট্রাম্পের ১০% শুল্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
কানাডা ও মেক্সিকো এই তালিকায় না থাকলেও, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন শুল্ক তাদের ‘প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে’।
RED TIMES LIMITED
116-117, Concord Emporium, Kataban, Dhaka-1205.
Mobile: 017111-66826
Email: redtimesnews@gmail.com
Copyright © 2025 RED TIMES. All rights reserved.