Sharing is caring!

টাইমস নিউজ
বৈশ্বিক স্বাধীনতা সূচকে গত বছরের তুলনায় ৫ পয়েন্ট উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউজের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতার অবনতি ঘটেছে, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় কিছু ইতিবাচক উন্নতি দেখা গেছে।
ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০০ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৪৫। গত বছর এই স্কোর ছিল ৪০। এবারও বাংলাদেশের অবস্থান ‘আংশিক মুক্ত’ দেশের কাতারে রয়েছে। ২০৮টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ৬০টিতে রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে, ৩৪টি দেশে উন্নতি দেখা গেছে। এল সালভাদর, হাইতি, কুয়েত ও তিউনিসিয়ায় সবচেয়ে বেশি অবনতি ঘটেছে। আর বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও সিরিয়ায় সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আরও উন্নতি নির্ভর করছে সরকার কীভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় এবং কীভাবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে তার ওপর।
ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্যান্য রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, শ্রমিক ইউনিয়ন, বিচারক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় চাপ কমেছে। এর ফলে ভুটানের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশই এ বছরের সবচেয়ে বেশি স্কোর উন্নতি করেছে। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। নতুন সরকারের এজেন্ডায় রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনি সংস্কার। সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখন, গত বছরের সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্বহাল করা এই সংস্কারের অংশ।
এছাড়া সরকারকে নির্বাচন আয়োজন, ধর্মীয় উত্তেজনা কমানো, অর্থনীতি স্থিতিশীল করা এবং শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবির মুখেও পড়তে হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করছেন।
প্রতিবেদনের সহ-লেখক ইয়ানা গোরোখোভস্কায়া ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতা অবনতির এটি ১৯তম বছর। তবে ২০২৪ সালে অনেক দেশে নির্বাচন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও গতিশীল ছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিরিয়ায় নাগরিক স্বাধীনতায় দ্রুত উন্নতি দেখা গেছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে উন্নতি হতে আরও সময় লাগবে।
এদিকে, প্রতিবেদনে সেনেগাল ও ভুটানকে ‘মুক্ত’ দেশের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সেনেগালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিরোধী দল জয়লাভ করে। আর হিমালয়ের দেশ ভুটান প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।