আজ শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কিস্তিতে মাসিক চাঁদা নেন মাদক দ্রব্যের সহকারী উপপরিদর্শক, ভিডিও ভাইরাল

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২৫, ০৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কিস্তিতে মাসিক চাঁদা নেন মাদক দ্রব্যের সহকারী উপপরিদর্শক, ভিডিও ভাইরাল

Sharing is caring!

রুবেল হোসাইন সংগ্রাম:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (খ-সার্কেল) মিঠাপুকুর অফিসের সহকারী উপপরিদর্শক- নুর ইসলাম, মাদক কারবারিদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাসিক চাঁদার কিস্তি নেন বলে জানা গিয়েছে। এর পূর্বেও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উঠলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC)। এমনকি এই কর্মকর্তা একজন পেশাদার জুয়াড়ি। তার নেতৃত্বে চলে জুয়ার আসর।
বৃহস্পতিবার (৩-এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর,(খ) সার্কেল, মিঠাপুকুরে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক নুর ইসলামের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, তিনি শাহিনুর নামে এক মুদি দোকানির (মাদক কারবারির) কাছ থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়ায় দুই যুবকের তোপের মুখে পড়েন। চাঁদা নেওয়ার অপরাধে লাঠি হাতে দুই যুবক তাকে আঘাত করার চেষ্টা করছেন। তাঁকে রশি দিয়ে বাধার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। এসময় সহকারী উপপরিদর্শক- নুর ইসলাম, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করছিলেন।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (খ) সার্কেল,মিঠাপুকুর অফিসে যোগদানের পর থেকে নুর ইসলাম, মাদক কারবারিদের কাছে মাসিক চুক্তিতে চাঁদা আদায় করে আসছেন। কখনো নিজে কখনো সোর্স মাধ্যমে আবার কখনো তার দেয়া বিকাশ নাম্বারে প্রতিমাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে তিনি মাসিক চাঁদা নিয়ে থাকেন। যাঁরা মাসিক চাঁদা দেন তারা নির্ভয়ে মাদক কারবার চালিয়ে যেতে পারেন। এমনকি কোনো কারণে সেসব এলাকায় অভিযান পরিচালিত হলেও যাঁরা তার সঙ্গে চুক্তিতে যুক্ত তারা আগাম খবর পেয়ে যান। আর যাদের সঙ্গে চুক্তি নেই, তাদের অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। তবে মাদক কারবারিদের অনেকের অভিযোগ, একবার গ্রেফতার হওয়ার পর নুর ইসলামের সঙ্গে চুক্তি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
মিঠাপুকুর উপজেলার ০২ নং রানীপুকুর ইউনিয়ন এবং ০৩ নং পায়রাবন্দ ইউনিয়ন ঘুরে ছোট-বড় প্রায় ৪২ জন মাদক কারবারির তথ্য মিলেছে। যেখানে বেশ কয়েকজন মাদক কারবারি নুর ইসলামকে বা তার সোর্সকে চাঁদা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ধরন অনুযায়ী মাসিক চাঁদা দেন। যেমন, হাঁড়িয়ার জন্য ১০০০, গাঁজা ব্যবসায়ি ২০০০,চোলাই মদ ৩০০০,ইয়াবা ৫০০০,হেরোইন ৮০০০,ফেনসিডিল ব্যবসায়ীর ১০০০০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিমাসে মাদক দ্রব্যের এই কর্মকর্তা আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা,ঘুষের মাসিক চাঁদা আদায় করে থাকেন।
গোলাপ নামে এক গাঁজা ব্যবসায়ি জানান, নুর ইসলাম স্যারকে, আমি সহ মুঞ্জর টাকা বিকাশে দেই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজ মাদক কারবারি জানান, আমি আমার মামা মন্ডল এবং এক মামীর টাকা নিজে দেই। টাকা না দেলে বাড়িতে এসে বসে থাকে। জেলহাজতে থাকা একজনের নিকটাত্মীয় জানান, ব্যবসা বন্ধ। কিন্তু নুর ইসলাম ঈদের পূর্বের দিন পর্যন্ত টাকার জন্য ঘুরেছে। বারবার ফোন দিয়ে ঘুষের টাকা চাইতেছে। বলতেছে এবারের কিস্তি বকেয়া পড়েছে। বৈরাগীগন্জের একজন নারী ফেনসিডিল ব্যবসায়ি বলেন, আমাদের ব্যবসা বন্ধ হউক আর চালু থাকুক! কিন্তু নুরইসলাম ভাইয়ের চাঁদা বন্ধ থাকেনা। প্রয়োজনে প্রতি সপ্তাহে কিস্তিতে ঘুষ নেবে,তবু আমাদের ছাড় নেই। শুকুমনি ত্রীর্কী বলেন, আমাদের পাড়ায় সবাই ১০০০ টাকা করে দেয়,মিনি সবার টাকা তোলে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে আমি হাঁড়িয়া বানাতে গেলে আমাকে বাঁধা দেওয়া হয়। তখন সবাই বলে আমরা চাঁদা দেই, তোকেও চাঁদা দিতে হবে। দমদমা এলাকার মনোয়ার হোসেন বলেন, এখানে নদীর উপর যে জুয়া খেলা চলে সেখানে তাকে নিয়মিত পাওয়া যায়। তাস খেলা তার প্রধাণ পেশা।
অভিযুক্ত নুরইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই এসব বাদ দেন। আমি রবিবারে আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবো। এমনকি প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের বলেন, কিছু লেখলেও যাতে আমি বদলি হই,সেরকম লেখেন। এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (খ) সার্কেলের উপপরিদর্শক, রফিকুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে সমস্ত তথ্য গুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি। বিভিন্ন অভিযোগ ইতিমধ্যেই ডিডি স্যার ক্ষতিয়ে দেখছেন।