Sharing is caring!

উৎফল বড়ুয়া, সিলেট:
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেট নগর সকল ধর্ম-বর্ণ জাতিগোষ্ঠী মিলেমিশে থাকার একটি পবিত্র স্থান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সিলেট। এখানে রয়েছে সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। আমাদের এই প্রাচীন নগর সিলেটে কোনো ধরণের খারাপ কাজের স্থান কখনো ছিল না, আগামীতেও থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমি মেয়র পদে থাকাকালীন সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির-উপাসনালয়ের অনেক উন্নয়ন করেছি। আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল অপশক্তিকে রুখে দেব। যে সকল মানুষ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে জীবনযাপন করেন তারা কখনো অসৎ পথে যান না। সুতরাং প্রত্যেক নাগরিককে ধর্মীয় বিধিবিধান ও রীতিনীতি মেনে চলা দরকার।’
শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা ১২টায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩০নং ওয়ার্ডের জৈনপুর, দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবী’ এর বার্ষিক পূজানুষ্ঠানে ‘সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সতীতীর্থ মহালক্ষ্মী গ্রীবাপীঠ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠের উন্নয়ন অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য যা যা করা দরকার তা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আলোকিত সমাজ গড়তে হলে যুব ও তরুণসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন- রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী মহারাজ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন, সরকারি বৃন্দাবন কলেজ হবিগঞ্জের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক নৃপেন্দ্র লাল দাস, শ্রীচৈতন্য গবেষণা কেন্দ্র সিলেটের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মনোজ বিকাশ দেব রায়, শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজ সিলেটের অধ্যক্ষ ড. দিলীপ কুমার দাস চৌধুরী অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, বীর মুক্তিযোদ্ধা পান্নালাল রায়, মিন্টু দাস, রঞ্জিত কর, দীপংকর পাল ও সুব্রত দেব লাভলু।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সহ-সভাপতি অধ্যাপক প্রতাপ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন। সমস্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন- শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠের সাধারণ সম্পাদক জনার্দন চক্রবর্ত্তী মিন্টু ও তাকে সহায়তা করেন নিপেশ কান্ত দেব পীযুষ।
উল্লেখ্য” শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থেকে ৩ দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়েছে। রবিবার (৬ এপিল) উৎসবের সমাপনী দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।